মুতার যুদ্ধ মুসলিম ও খৃষ্টানদের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ

ইতিহাসের এক অসাধারণ অধ্যায় হলো মুতার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে অতি নগণ্য সংখ্যক একদল সাহাবী রোমান সাম্রাজ্যের বিশাল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে সাহসিকতার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ যুদ্ধই খৃষ্টান অধ্যুসিত দেশসমূহ জয়ের পথ খুলে দেয়।

মুতার যুদ্ধ মুসলিম ও খৃষ্টানদের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ

মুতার যুদ্ধ মুসলিম ও খৃষ্টানদের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ


মুতার যুদ্ধ ছিল ৬২৯ খৃস্টাব্দে (৮ম হিজরি) জর্ডানের মুতা নামক স্থানে সংঘটিত একটি যুদ্ধ। যেখানে মুসলিম বাহিনী রোমান সাম্রাজ্যের বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। মাত্র ৩০০০ মুসলিম সৈন্য ১ লক্ষাধিক রোমান সেনার মুখোমুখি হয়েছিল। এ যুদ্ধ মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছিল। মুতার যুদ্ধ মুসলিম ও খৃষ্টানদের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ।

তৎকালীন রোমান যোদ্ধাদের বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শক্তি বলে গণ্য করা হত। শুধু রোমান বাহিনী নয়, তাদের সাথে আরও এক লক্ষ আরব খৃষ্টান যোগ দিয়েছিল। এই দুই লক্ষ অসম শক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম সাহাবীগণ শাহাদাতের আকাঙ্খায় উজ্জীবিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং ইতিহাসে এক বিষ্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

মুতার যুদ্ধের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল এটিই একমাত্র যুদ্ধ যেখানে রাসূল সা. কর্তৃক মনোনীত তিনজন সামরিক কমান্ডার- জায়েদ বিন হারিসা রা., জাফর বিন আবু তালিব রা. এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. প্রত্যেকে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। এমন সংকটময় মহূর্তে সেনাপতিত্ব গ্রহণ করেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. যিনি অসাধারণ কৌশল প্রদর্শন করে মুসলিম বাহিনীকে রক্ষা করেন।

তার অসাধারণ বীরত্বে বিশাল রোমান বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং তাদের অগ্রভাগ সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে। খালিদ বিন ওয়ালিদের এই বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে রাসূলুল্লাহ সা. তাকে ‘সাইফুল্লাহ’ বা আল্লাহর তরবারি উপাধি প্রদান করেন। তাঁর জীবদ্দশায় রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য নয় বরং গোটা মানব ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।

যুদ্ধের কারন


মক্কা বিজয়ের কয়েক মাস পূর্বে ঐতিহাসিক মুতার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বদর, খন্দক ও খাইবারের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর ধারাবাহিক বিজয়ের আরবে নতুন শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয় ইসলাম। এই সময় নবী মুহাম্মদ সা. মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় শাসকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত প্রেরণ করতে থাকেন। পত্র বাহক মুতা নামক স্থানে পৌছালে শাসক সুরাহবিল ইবনে আমর গাসসানি তাকে হত্যা করে। এর পূর্বে নবী করীম সা. কর্তৃক কোন দূত শহীদ হননি।

এই ঘটনা মুসলিম সমাজে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করে। প্রতিশোধ গ্রহণের লক্ষ্যে নবী সা. ৩০০০ সদস্যের একটি সেনাবাহিনী গঠন করেন। মদিনার মুসলিমদের তখন পর্যন্ত বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ ছিল এই বাহিনী। প্রথম কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল জায়েদ বিন হারিসাকে। দ্বিতীয় কমান্ডার জাফর বিন আবু তালিব এবং তৃতীয় কমান্ডার ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.।

নবী করিম সা. নির্দেশ দেন, ‘যদি প্রত্যেক কমান্ডার শাহাদাত বরন করেন, তবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী কমান্ডার নির্ধারণ করবে’। মুসলিম বাহিনী জর্ডানের সীমান্তে পোঁছায়। শত্রুপক্ষের দুই লক্ষের বিশাল বাহিনীর মোকাবিলা ছিল এক অসম লড়াই। একে একে কমান্ডারদের শাহাদাতের পর খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. বীরবিক্রমে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

নবী করীম সা. মুসলিম বাহিনীর সাথে অনেক দুর অগ্রসর হয়ে তাদেরকে বিদায়ের সময় বললেন, ‘প্রথমে মুতাবাসীকে ইসলামের দাওয়াত দিবে, কবুল না করলে যুদ্ধ করবে’। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর নাম নিয়ে আল্লাহর পথে, এবং কুফরকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, খেয়ানত করবে না, কোন নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং গীর্জায় অবস্থানকারীকে হত্যা করবে না। খেজুর এবং অন্য কোন গাছ কাটবে না, কোন অট্টালিকা ধ্বংস করবে না।

রাসুল সা. সৈন্যদের সালাম ও বিদায় জানানোর পর মুসলিম সৈন্যরা রওয়ানা হয়ে যান। যুদ্ধে প্রথম কমান্ডার শহীদ হয়ে গেলেন। এরপর সেনাপতি জাফর বিন আবু তালিব রা. এর ডান হাত শহীদ হলে বাম হাতে পতাকা তুলে ধরলেন। এবার বাম হাত শহীদ হলে মুখে কামড় দিয়ে বুকে ধারণ করলেন। তিনিও শহীদ হলেন। তার শরীরে ৭২ টি বর্শা ও তীরের আঘাত লেগেছিল।

নবী করীম সা. মদিনা শরীফে মসজিদে নববীতে বসে বসে সবকিছূ দেখতে পেলেন। তিনি হটাৎ করে গায়েবী সালামের জবাব দিয়ে বললেন, ‘ওয়া আলাইকুমুছ সালাম’। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি- আল্লাহ জাফরকে দুহাতের বদলে দুটি নূরের বাহু দান করেছেন। তিনি ফেরেশতাসহ আকাশে উড়ে যাচ্ছেন আর আমাকে সালাম দিচ্ছেন’।

মুসলিম বাহিনীর অগ্রযাত্রা


মুসলমানরা ধারনাই করতে পারেনি যে, তারা সত্যিই কোন সঙ্কটজনক অবস্থার সম্মুখীন হবেন। তারা কি দুই লাখ সৈন্যের সাথে মোকাবেলা করবেন? বিস্মিত চিন্তিত মুসলমানরা দুই রাত পর্যন্ত পরামর্শ করলেন। কেউ কেউ অভিমত প্রকাশ করলেন যে, রাসূল সা. কে অবহিত করা হোক। হয়তো তিনি বাড়তি সৈন্য পাঠাবেন অথবা অন্য কোন নির্দেশ দিলে তখন সেটা পালন করা যাবে।

আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. দৃঢ়তার সাথে এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন। তিনি বললেন, স্মরণ রাখবেন যে, শত্রুদের সাথে আমাদের মোকাবেলার মাপকাঠি সৈন্যদলের শক্তি এবং সংখ্যা বিচার্য নয়। আপনারা তো শাহাদাতের জন্য বেরিয়েছেন। কাজেই সামনের দিকে চলুন। হয়তো আমরা জয়লাভ করবো অথবা শাহাদাত বরণ করে জীবন ধন্য হবে। অবশেষে রাওয়াহার সিদ্ধান্তই গৃহীত হল হল।

যে যুদ্ধে পরপর তিন সেনাপতি শহীদ হয় এবং মহানবীর যুদ্ধে যাওয়ার আহবান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সাহাবিরা যে যে অবস্থায় ছিল, যে যা পেল তা নিয়ে ছুটলো মুতার দিকে। কেউ হেঁটে কেউ ঘোড়ায় বা উটে চড়ে চলল। কে কার আগে পৌঁছাতে পারে তারই যেন প্রতিযোগিতা। রোমান সৈন্যদের কাছে এটা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর।

পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা সেনাপতিত্ব গ্রহন করে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে তিনিও শহীদ হলে খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে সেনাপতি নিযুক্ত করা হল। তিনি বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে অসংখ্য শত্রুকে নিধন করে চললেন। শত্রুরা পালিয়ে গেল। অবশেষে আল্লাহ মুসলমানদের বিজয় দান করলেন। বিজয়ী হয়ে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলেন।

যুদ্ধের সমাপ্তি


মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে দুই লাখ সৈন্যের সামনে টিকে থাকা ছিলো এক বিষ্ময়কর ঘটনা। এ যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে যথেষ্ট মতভেদ আছে। তিনি রোমান সৈন্যদের মোকাবেলায় নতুন এক কৌশলের কথা ভাবছিলেন, যাতে তাদেরকে প্রভাবিত করা যায়। সেই কৌশলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মুসলমানদের যেন পিছিয়ে নেয়া যায়। আর লক্ষ্য রাখতে হবে রোমানরা যেন ধাওয়া করতে না পারে।

পরদিন সকালে খালেদ রা. সেনাদল রদবদল করে বিন্যাস করলেন। ডানদিকের সৈন্যদের বামদিকে এবং বামদিকের সৈন্যদের পিছনে নিয়ে গেলেন। সৈন্য রদবদল দেখে শত্রুরা বলাবলি করতে লাগলো যে, মুসলমানরা সহায়ক সৈন্য পেয়েছে এবং তাদের শক্তি পূর্বাপেক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেনা রদবদল করে খালেদ রা. মুসলমানদের ধীরে ধীরে পিছিয়ে নিলেন।

রোমান সৈন্যরা আর আক্রমণ করতে এগিয়ে গেলো না। তারা তখন ভাবছিলো যে, মুসলমানরা ধোঁকা দিচ্ছে। তারা মরুপ্রান্তরে নিয়ে পাল্টা হামলা করে আমাদের পর্যুদস্ত করবে। এরুপ চিন্তা করে তারা মুসলমানদের ধাওয়া না করে নিজেদের এলাকায় ফিরে গেল। এদিকে মুসলমানরা পিছাতে পিছাতে মদিনায় গিয়ে পৌছায়।

প্রায় ৭ দিন ধরে চলা এ যুদ্ধে মুসলমানদের ১২ জন শাহাদাত বরণ করেন। রোমানদের কতজন হতাহত হয়েছে তার বিবরণ জানা যায়নি। তবে যুদ্ধের বর্ণনায় বোঝা যায় যে, তাদের বহু হতাহত হয়েছে। কেননা, একমাত্র খালেদ রা. এর হাতেই ৯টি তলোয়ার ভেঙ্গেছিল। আর তার হাতে অবশিষ্ঠ ছিল ইয়েমেনী একটি ছোট তলোয়ার। এতেই শত্রুদের হতাহতের সংখ্যা সহজেই অনুমান করা যায়।

খালিদ রা. এর অভূতপূর্ব রণকৌশল


সে সময় রাত্রে যুদ্ধ করার প্রচলন ছিল না। যখন রোমানরা রাত্রে নিজ নিজ তাবুতে বিশ্রাম নিতে থাকে সে সময় খালিদ বিন ওয়ালিদ তাঁর বাহিনীকে নিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন। সেই নিরাপদ স্থানে মুসলমানদের জন্য অনেক সাহায্য এসেছে এমন ধারনা শত্রুদের মনে ঢুকিয়ে দেয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। ফলে তাদের মনে ত্রাস সৃষ্টি হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের জন্য তিনি কয়েকটি কৌশল গ্রহণ করেন। যেমন-

এক. সারা রাতধরে তিনি মুসলিম বাহিনীর গোড়াগুলি দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঘন ধুলাবালি উড়াতে থাকেন যাতে করে রোমীয়রা বুঝতে পারে মুসলমানদের জন্য বিরাট কোনো সাহায্য এসেছে।

দুই. তিনি সেনাবাহিনীর বিন্যাস পাল্টে ফেলেন। ডানদিকের সৈন্য বামদিকে আর বামদিকের সৈন্যকে ডানদিকে এবং সামনের সৈন্যকে পিছনে আর পিছনভাগকে নিয়ে আসেন অগ্রে। সকালে উঠে মুসলিম বাহিনীর এই পরিবর্তনে তারা নিশ্চিত বিশ্বাস করেতে থাকে যে মুসলমানদের জন্য বিরাট সাহায্য এসেছে। ফলে তাদের মনোবল আস্তে আস্তে ধ্বসে পড়বে।

তিন. বাহিনীর শেষভাগে তিনি বেশ দূরত্বে একটি টিলার পিছনে রেখেছিলেন রিজার্ভ বাহিনী। সেখানে বিস্তীর্ণ প্রান্তরে তাদের একমাত্র কাজ ছিল ধুলা উড়ানো। যাতে রোমানরা মনে করে মুসলমানদের জন্য লাগাতার সাহায্য আসছেই। এই ভেবে তাদের মনে ত্রাস আরো ঘনিভূত হতে থাকবে।

চার. পরবর্তী দিন রণাঙ্গনে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে নিয়ে আস্তে আস্তে করে পিছিয়ে মরুভূমির গভীরে যেতে থাকেন। রোমানরা মনে করে খালিদ তাদেরকে মরুভূমির মাঝে নিয়ে হয়তো কোনো ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছে। মুসলিম বাহিনীকে ধাওয়া করতে দ্বিধাবোধ করতে থাকে। মুসলিম বাহিনীকে পিছু হটতে দেখেও তারা হামলার দুঃসাহস করতে পারেনি।

মুতার সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধে তিন মহাবীর সহ আরো নয়জন সাহাবি শহীদ হন। অপরদিকে মুসলিম বাহিনী রোমীয়দের হাজার হাজার সৈন্য কচুকাটা করে ছিনিয়ে এনেছিলেন বিজয়। যে বিজয় এসেছিল আল্লাহর তরবারি খালিদ বিন ওয়ালিদের হাত ধরে।

মুতার যুদ্ধের প্রভাব


রোমানরা ছিলো সে সময়ের শ্রেষ্ঠ শক্তি। আরবরা মনে করত তাদের সাথে যুদ্ধ করা মানে আত্মহত্যার সামিল। তবে আরবরা বুঝতে সক্ষম হয়েছিল যে, তাদের সাথে আল্লাহর সাহায্য এবং রাসূলের নেতৃত্ব আছে। মুসলমানদের চিরশত্রু বেশকিছু গোত্র যেমন বনু ছালিম, আশজা, গাতফান ও ফাজারাহ গোত্রগুলি মুতার যুদ্ধের পর ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

মুতার যুদ্ধে রোমান সৈন্যদের সাথে আরবের বিভিন্ন গোত্রের সহযোগিতামূলক ভূমিকার কথা জেনে রাসূল সা. গোত্রগুলির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের হাত প্রসারিত করা জরুরী মনে করলেন। ভবিষ্যতে যেন মুসলমানদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার সৈন্য সমাবেশ না করে। এ উদ্দেশ্যে রাসূল সা. আমর ইবনু আস রা. কে মনোনীত করেন।

রাসূল সা. নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, মুসলিম সেনাদল বলি, আজরা এবং বলকিন এলাকায় যাওয়ার সময় তাদের কাছে যেন সাহায্য চায়। মুসলিম সেনাদল রাত্রিকালে সফর করতেন আর দিনের বেলা লুকিয়ে থাকতেন। শত্রুদের কাছাকাছি পৌঁছার পর জানা গেল যে, তাদের দল ভারি। রাসূল সা. কে চিঠি মারফত জানালে দুইশত সৈন্য আবু ওবাইদা ইবনুল জাররাহ রা. এর নেতৃত্বে প্রেরণ করেন।

এদের মধ্যে হযরত আবু বকর, ওমর সহ আনসার ও মোহাজেরদের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দও ছিলেন। সেনাপতি আবু ওবাইদা রা. কে রাসূল সা. নির্দেশ দেন, তিনি যেন আমর ইবনুল আস এর সাথে মিলেমিশে কাজ করেন। কিন্তু আবু ওবাইদা সেখানে যেয়ে পুরা বাহিনীর নেতৃত্ব চান। আমর ইবনুল আস বলেন, আমিই তো অধিনায়ক। আপনিতো সহায়ক সৈন্য নিয়ে এসেছেন। আবু ওবাইদা একথা মেনে নেন।

সহায়ক সেনাদল দুরবর্তী স্থানে পৌছানোর পর একপর্যায়ে শত্রুদের সাথে মোকাবেলা হওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু শত্রুরা মোকাবেলা না করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এরপর আওফ ইবনে মালেক আশজায়ীকে দূত হিসাবে রাসূল সা. এর কাছে প্রেরণ করা হয়। তিনি মুসলমানদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং অভিযানের খবর রাসূলুল্লাহ সা. কে শোনান।

মুতার যুদ্ধ মূলত একটি অমীমাংসিত লড়াই, যেখানে কোনো পক্ষই চূড়ান্তভাবে জয়লাভ করতে পারেনি। বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুসলিমদের বীরত্ব ও মনোবল বৃদ্ধি পায়। এ যুদ্ধের ফলে খৃস্টান দেশগুলিতে মুসলিমদের প্রভাব বিস্তারের একটি ভিত্তি স্থাপন করে এবং পরবর্তীকালে এ অঞ্চলে জয়ের পথ সুগম করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url